অসুস্থ শিশুকে বাঁচাতে ম্যারডোনার কাণ্ড

নেপলসে তাঁকে দেবতা বলে মানা হয়। আইনি ঝামেলা তাঁকে ইতালির অন্য যেকোনো স্থানে গ্রেপ্তার হতে বাধ্য করবে। কিন্তু নেপলসে? ডিয়েগো ম্যারাডোনা যে সেখানে সবার আরাধ্য। এ অঞ্চলের সেরা সাফল্য আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির হাত ধরে। তাঁর সুবাদেই দুটি সিরি ‘আ’ শিরোপা ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ করেছিল নাপোলি।

শুধু ফুটবল মাঠের সাফল্যই ম্যারাডোনাকে দেবতা বানায়নি নেপলসবাসীর কাছে। যে আবেগ ও ভালোবাসা নিয়ে ফুটবল খেলতেন, পেশাদার মানসিকতার উর্ধে উঠে সবাইকে যেভাবে কাছে টেনে নিতেন; সেটাই ম্যারাডোনাকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১৯৮৪ সালে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে নাপোলিতে যোগ দেওয়ার পরই এমন এক কাণ্ড করেছিলেন যে, নাপোলির জার্সি চড়িয়ে কোনো ম্যাচ খেলার আগেই শহরের মানুষের চোখে দেবতা হয়ে উঠেছিলেন। বহুদিন পর প্রকাশিত এক ভিডিওর সুবাদে আলোচনায় এল সে খবর।

১৯৮৪ সালের ৫ জুলাই ৭৫ হাজার সমর্থকের সামনে ম্যারডোনাকে হাজির করা হয়েছিল নাপোলির স্তাদিও সান পাওলোতে। তার কদিন পরই এক ম্যাচে খেলতে নেমেছিলেন ম্যারাডোনা। সেটা ক্লাবের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই। সে ম্যাচের কিছু খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দুজন ডিফেন্ডারকে নাচিয়ে গোলরক্ষকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ম্যারাডোনা।

আগুয়ান গোলরক্ষককেও বোকা বানিয়ে জালে বল পাঠাচ্ছেন। কাদায় ভরা এক মাঠেও নিজের ড্রিবলিং স্কিল দেখাতে সমস্যা হয়নি তাঁর। এমন গোলের পর মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সব দর্শক ছুটে এসে জড়িয়ে ধরছেন তাঁকে। এ ম্যাচের গল্পটা আরও চমকপ্রদ। নাপোলিতে যোগ দেওয়ার পরই একটি দাতব্য ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয় ম্যারাডোনাকে। অসুস্থ এক শিশুর চিকিৎসার খরচ জোগাতে আয়োজন করা হয়েছিল সে ম্যাচ।

২৪ বছর বয়সী ম্যারাডোনা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বাদ সাধে তাঁর ক্লাব। মাত্রই বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে আনা এক খেলোয়াড় অপ্রস্তুত মাঠে অপেশাদার ফুটবল খেলুক, সেটা কোন ক্লাবই-বা চায়! কিন্তু ম্যারাডোনাও-বা কবে কার কথা শুনেছেন! আবেগই তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছিল। একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য তাঁর বাড়ির পাশের মাঠেই হাজির হয়েছিলেন খেলতে। দাবি করা হয়, কোনো প্রচার না করা স্বত্বেও চার হাজার মানুষ এসেছিলেন সে খেলা দেখতে।

About admin

Check Also

খেলা শুরু হলে মানুষের করোনা ভীতি কেটে যাবে: পিটারসেন

মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এমন সংবাদে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *